জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে কমিশন সুপারিশ উপস্থাপন করেছে। সেই সুপারিশের আলোকে সরকার আদেশ জারি করবে, সেটাই কথা ছিল। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে যখন আরও এক সপ্তাহ আলাপ আলোচনার কথা বলা হয়, তখন মনে হয় সংস্কারের বিষয় নিয়ে সাপ-লুডু খেলছে সরকার। আমরা ৯৬-তে পৌঁছে গিয়েছিলাম, সেটাকে আবার তিনে নিয়ে আসা হয়েছে সাপ কেটে। দেশের যে রাজনৈতিক অবস্থা, তাতে সংকট আরও ঘনীভূত করছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল সরকারের। এই ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে সরকার কেন বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে? যে সংস্কারের জন্য তারা চেয়ারে বসলেন, ক্ষমতা উপভোগ করলেন, সেই সংস্কারই যদি তারা বাস্তবায়ন করতে না চান, রাজনৈতিক দলের মুখাপেক্ষী থাকেন– তাহলে তারা তাদের ম্যান্ডেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন বলে মনে করছি। তাই সরকারের কাছে আহ্বান, সংবিধান সংস্কারে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করুন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জনগণের দাবি নয়– এমন কথা বলাটা ঔদ্ধত্যপূর্ণ। এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিপক্ষে কথা বলেছেন। বিএনপি যদি জুলাই সনদে না ভোট দেওয়ার বিষয়ে ক্যাম্পেইনও করে, তারপরও এদেশে জুলাই সনদ ‘হ্যাঁ’ ভোটে পাস হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কোনো দল আটকাতে পারবে না।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রার্থী তালিকা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকারের ভেতরের কোনো একটা অংশ সংস্কারকে ভণ্ডুল করে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা দেশের তরুণ সমাজ আশা করেছিলাম, বিএনপি থেকে ভালো ভালো কিছু প্রার্থী পাবো। তবে দলটির প্রার্থী তালিকা হতাশ করেছে। অধিকাংশ জায়গায় এসেছে গডফাদার।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে একবার বিএনপি এসে ভয় দেখায়, একবার জামায়াত এসে ভয় দেখায়। আমরা যেখানে ভয় পাই না, সেখানে প্রধান উপদেষ্টা কিংবা উপদেষ্টারা কেন ভয় পাবেন?
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন প্রমুখ।
