জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সানজিদা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এক বছর আগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিন ধরে সানজিদা জ্বরে ভুগছিলেন। শুরুতে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন, কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, ভর্তি হওয়ার পরই তার রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা দ্রুত কমে যায় এবং রক্তচাপ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।
দুর্ভাগ্যবশত, আইসিইউতে নেওয়ার প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পরই সানজিদা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গুর জটিলতাজনিত কারণে তার শরীর একাধিক অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটায়।
সানজিদার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোক নেমে এসেছে। তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে লিখেছেন, “সানজিদা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও পরিশ্রমী মেয়ে। জীবনের শুরুতেই এমন অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।”

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সানজিদার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে স্বামীর বাড়ি মেহেরপুরে দাফন করা হোক। সেই অনুযায়ী বুধবার বিকেলে তার মরদেহ মেহেরপুরে নেওয়া হয় এবং সেখানেই জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
তার মৃত্যু ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেলেও, এবার তা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন। তারা সবাইকে ঘর-বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সামান্য জ্বর বা শরীর ব্যথা হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
সানজিদার এই অকাল মৃত্যু শুধু তার পরিবার নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের জন্য এক গভীর বেদনার ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের এই প্রাণবন্ত মুখটি হারিয়ে সমাজ যেন আরও এক সম্ভাবনাময় জীবনের আলো নিভে যেতে দেখল।
আরো পড়ুন
জবির বিশেষ শিক্ষা বৃত্তি, যেভাবে করতে হবে আবেদন
এ বিষয়ে তার স্বামী তাজ বলেন, ‘দীর্ঘদিন সানজিদার জ্বর আসত, যেত। একই সাথে বিগত কয়েক মাস যাবৎ ওর রক্তের ইনফেকশনের চিকিৎসা চলছিল। আজ হঠাৎই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।গতকাল থেকে আজ তার শেষনিঃশ্বাস পর্যন্ত ৩-৪টা হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ ঢামেকে আইসিইউতে নেওয়ার পর ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। এরই মধ্যে সানজিদা আমাদের ছেড়ে চলে যায়।’
সানজিদার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
