বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন ৭২ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে ‘আওয়ামী লীগপন্থি’ ৩৪ জন, ‘জামায়াতপন্থি’ কর্মকর্তা ২৯ জন এবং ‘বিএনপিপন্থি’ কর্মকর্তা পাঁচ জন এবং সুবিধাভোগী কর্মকর্তা ১০ জন সচিব রয়েছেন। প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা জামায়াতে ইসলামীর হয়ে কাজ করছেন। একইভাবে জামায়াতের অভিযোগ, কর্মকর্তাদের বড় অংশই কাজ করছেন বিএনপির পক্ষে। অন্যদিকে এনসিপিসহ অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবি, প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করছেন বিএনপি ও জামায়াতের হয়ে। প্রশাসনের বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় হচ্ছে। গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ‘চিহ্নিত দলবাজ আমলাদের’ তালিকা প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দিয়ে নির্বাচনের আগে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে। ফলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনযন্ত্রকে দলনিরপেক্ষ করার পরিকল্পনা করেন। সেজন্যই তিনি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রশাসনকে দলনিরপেক্ষ করতে জনপ্রশাসন সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তাদের চুক্তি বাতিল করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তাদের চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। জনপ্রশাসনে বদলি-পদায়নে ‘ভাগবাঁটোয়ারা’য় উপদেষ্টা পরিষদের ভেতর থেকে সহায়তা করা হচ্ছে অভিযোগ করে সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চেয়েছে এনসিপি। বুধবার বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানিয়েছে তারা।
- আগামী সপ্তাহে ‘দলবাজ’ সচিবদের সরিয়ে দেওয়া শুরু হচ্ছে
- সব জেলায় ডিসি, এডিসি, ইউএনও পরিবর্তন করা হবে
- পুলিশ সুপার ও থানার ওসি পর্যায়েও আসবে নতুন মুখ
গত সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তাদের আশ্বস্ত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে যিনি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারবেন, সেরকম যোদ্ধাদেরকেই আমরা বেছে নেব। এটা (প্রশাসনে রদবদল) আমার হাতে থাকবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা-কিছু প্রয়োজন, আমরা করব।’ তিনি বলেন, “জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনের আগে প্রশাসনের যাবতীয় রদবদল সরাসরি আমার তত্ত্বাবধানে হবে। জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগের জন্য একাধিক ‘ফিট লিস্ট’ থেকে যোগ্য কর্মকর্তাদের বাছাই করে ভোটের আগে যথাস্থানে নিয়োগ দেওয়া হবে।”
জানা গেছে, গত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আগামী নির্বাচনে রাখতে চাচ্ছে না সরকার। সেভাবেই প্রস্তুতি চলছে। খালি থাকা কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব যোগ দিয়েছেন। নির্বাচনের তপসিল ঘোষণার আগেই মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তাদের রদবদল করা হবে। নির্বাচন কমিশন চাইলে তপসিল ঘোষণার পরও রদবদল হবে। প্রশাসনে ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তারা ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিমধ্যেই ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তারা যুগ্ম-সচিব হয়েছেন, তাদের মাঠ থেকে তুলে আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। নির্বাচনের সময় ডিসিরা রিটার্নিং অফিসার এবং ইউএনও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হন। বর্তমানে ৩৪, ৩৫ এবং ৩৬ ব্যাচের কর্মকর্তারা ইউএনও হিসেবে আছেন। অনেক জেলায় ৩৪ ও ৩৫ ব্যাচের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্বেও আছেন। খুব দ্রুতই মাঠ থেকে ৩৪ ব্যাচের সব ইউএনওদের তুলে আনা হবে। সেখানে ৩৫ ও ৩৬ ব্যাচের কর্মকর্তা পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগে ৩৭ ব্যাচ থেকেও ইউএনও মাঠে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়েও বড় রদবদল আসবে। বর্তমানে ২৪, ২৫ ও ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তারা জেলা পর্যায়ে এসপি হিসেবে আছেন। এর মধ্যে ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের তুলে আনা হবে।
