বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় চট্টগ্রামে লাশ পড়ল। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন আলোচিত সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলা (৪৩)।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে নগরীর হামজারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অন্য তিনজন হলেন– ইরফানুল হক শান্ত, আমিনুল হক ও মর্তুজা হক। তাদের মধ্যে শান্ত ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বাকি দুজনও বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। এরশাদ উল্লাহসহ অন্য তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপির নেতারা একে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার রাত ৮টার দিকে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। তবে ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেনাবাহিনী ও ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।
চট্টগ্রাম নগরীতে সংসদীয় আসন আছে চারটি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮(বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ-বায়েজিদ আংশিক) আসনে গত সোমবার নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নাম ঘোষণা করা হয়।
বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক পোস্টে জানায়, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। হামজারবাগ এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং পায়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহ আশঙ্কামুক্ত। তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। এরশাদ উল্লাহর ছেলে ইমাদ এরশাদ বলেন, আমার বাবাকে গুলি করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, নির্বাচনী প্রচারকালে নগর বিএনপির আহ্বায়কসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল সরওয়ার বাবলার। সাজ্জাদ কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু তার অনুসারীদের কেউ এ খুনে জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হন।
নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, নির্বাচনী প্রচারকালে এরশাদ উল্লাহর ওপর গুলি চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের লোকজন। আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করতেই সক্রিয় আছে একটি পক্ষ। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১০টিতে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, মনোনয়ন পেয়ে বুধবার সন্ধ্যার দিকে হামজারবাগ এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করছিলেন এরশাদ উল্লাহ। মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পর এটি তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রথম গণসংযোগ ছিল।
হামলাকারীরা এরশাদ উল্লাহর সঙ্গেই ছিল
কুয়াইশ অক্সিজেন সড়কের এক কিলোমিটার ভেতরে খোন্দকারাবাদ। মোড়েই হজরত ইজ্জত উল্লাহ শাহ মসজিদ। গতকাল রাতে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মসজিদের পাশে রাস্তায় রক্তের দাগ। এক পাটি কেডস পড়ে আছে। সামনে এগোতেই কালু মুন্সীর বাড়ির সামনে মানুষের জটলা। তানিয়া স্টোরের সামনে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। লোকজনের মুখে আতঙ্ক। ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইতেই সরে যাচ্ছিলেন তারা।
তানিয়া স্টোরের পাশে একটি ফার্মেসির সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে পাওয়া গেল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তিনি তানিয়া স্টোরের পাশে চায়ের দোকানে বসেছিলেন। মাগরিবের নামাজ শেষে এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগ করতে করতে তানিয়া স্টোরের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁকে ঘিরে মানুষের ভিড় ছিল। সেখানে সরওয়ার হোসেন বাবলাও ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ পান। প্রথমে ভেবেছিলেন ফটকা ফাটানো হচ্ছে। তিনি দোকান থেকে বের হয়ে দেখেন, লোকজন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সটকে পড়ছিলেন। কয়েকজন যুবককে দৌড়ে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যেতে দেখেন। তানিয়া স্টোরের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় উপুড় হয়ে পড়েছিলেন বাবলা। লোকজন এরশাদ উল্লাহকে ধরাধরি করে নিয়ে যান। পরে এলাকার এক ব্যক্তি বাবলাকে রিকশায় তুলে দেন। মোড়ে গিয়ে রিকশা থেকে পড়ে যান তিনি। তাঁকে লোকজন আবার তুলে দেন রিকশায়। তাঁর ধারণা, ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বাবলা। তবে খুনিরা এরশাদ উল্লাহকে ঘিরে থাকা ভিড়ের মধ্যেই ছিলেন।
এরশাদ উল্লাহর পায়ে গুলি
চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনজন। এর মধ্যে এরশাদ উল্লাহকে গুলি করা হয়েছে পায়ে। সরওয়ার বাবলার গুলি লেগেছে কাঁধে ও পিঠে। গুলিবিদ্ধ অপর তিনজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আছে জখমের চিহ্ন। নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহতরা।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল বলেন, নগরীর তিন নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে নির্বাচনী সভা করেছেন এরশাদ উল্লাহ। সভা শেষ করে তিনি সেখানে একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়েন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তিনি হেঁটে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে গুলি করে।
বাড়ি থেকে ১০০ মিটারের মধ্যেই খুন হন বাবলা
তানিয়া স্টোর থেকে কালু মুন্সীর বাড়ির দূরত্ব মাত্র একশ মিটার। এখানে আছে বাবলার একতলা ঘর। ঘরের ভেতর বাবলার ভাবি নুসরাত জাহানকে ঘিরে ছিলেন বাড়ির নারীরা। মা-বাবা তখন এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে বাবলাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার ভাবি নুসরাত জাহান জানান, ধানের শীষের স্লোগান শুনে তিনি আর বাবলার স্ত্রী টুম্পা ঘরের ছাদে ওঠেন। সেখানেই হঠাৎ গুলির শব্দ পান। মনে করেছিলেন ফটকা। এর পরই একটা শিশু এসে বলে, বাবলা গুলি খেয়েছে। তখন তার স্ত্রী টুম্পা তার দুলাভাইকে কল দিলে জানতে পারে, এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার সময় গুলি করা হয় তাকে। এ সময় এরশাদ উল্লাহও গুলিবিদ্ধ হন।
কারা বাবলাকে গুলি করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার তো শত্রুর অভাব নেই। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেছে। এখনও দুই মাস হয়নি। এর মধ্যে তাকে খুন করা হলো। সে কোনো খারাপ কাজে ছিল না। সারাদিন ঘরের কাজ করত। আজকেও ছাদে গাছ লাগাচ্ছিল। মাগরিবের একটু আগে ঘর থেকে বের হয়েছিল। খুনিদের বিচার দাবি করেন তিনি।
তানিয়া স্টোরের মালিক মো. বেলাল বলেন, আমি ক্রেতাকে পণ্য মেপে দিচ্ছিলাম। এর মধ্যে গুলির শব্দ পাই। দোকানের সামনে দেখি, বাবলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁকে একটা রিকশায় তুলে দিয়েছি।
কেন টার্গেটে ছিলেন বাবলা
নগরের বায়েজিদ, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী এলাকার আধিপত্য নিয়ে লড়াই চলছে ছোট সাজ্জাদ ও বাবলার মধ্যে। এই বিরোধের জের ধরে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ইতোমধ্যে ছয়টি খুন হয়েছে। এর পর থেকে পুলিশ ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তারে উঠে পড়ে লাগে। ঘোষণা করা হয় পুরস্কারও। গত ১৫ মার্চ রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা কমপ্লেক্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে প্রকাশ্যে হুমকি দেন, ‘যারা এ ঘটনা ঘটাইছে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। মাথায় রাইখো। এতদিন আমরা পলাতক ছিলাম। এখন তোমাদের পলাতক থাকার পালা।’
এর আগে তামান্না অভিযোগ করেছিলেন, সাজ্জাদকে ধরতে যখন পুলিশ অভিযানে আসে, তখন সঙ্গে বাবলাও ছিল। এটির প্রতিশোধ তারা নিবেই নিবে। সাজ্জাদ ও তামান্না কারাগারে থাকা অবস্থাতেই এবার খুন হলেন সেই বাবলা।
বাবলা চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী
সরওয়ার হোসেন বাবলা ছিলেন চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ছিল ১৫টি। ৫ আগস্টের আগে ছিলেন কারাবন্দি। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে টুম্পা নামের এক তরুণীর সঙ্গে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। কিন্তু মাত্র ৪৬ দিনের মাথায় প্রকাশ্যেই খুন হলেন তিনি।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজ্জাদ ও বাবলা বাহিনী গত দেড় বছরে খুন করেছে ছয়জনকে। একে অপরকে খুন করতে আরও আগে ছকও এঁকেছে কয়েক দফা। কিন্তু সাজ্জাদ কারাগারে থাকতেই এবার টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হলেন বাবলা।
যা বললেন পুলিশ কমিশনার
রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ ঘটনার টার্গেটে ছিলেন না, লক্ষ্য ছিল সরওয়ার বাবলা। গুলি সরাসরি বাবলার গায়ে লেগেছে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেটি বাবলার এলাকা ছিল। যারা করেছে, তারা বাবলার প্রতিপক্ষ। নির্বাচনের আগে এরকম একটি ঘটনা– এটা অবশ্যই ভালো হলো না।
তিনি আরও বলেন, এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগ করবেন, এই স্থানে যাবেন সে ব্যাপারে পুলিশকে জানানো হয়নি। সন্ত্রাসীদের আমরা অবশ্যই আইনের আওতায় আনব। নির্বাচনকে ব্যাহত করতে এটা করা হয়েছে– সেটা এখনই বলা ঠিক হবে না। এটি নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আমরা মনে করি না।
যা দেখা গেল ভিডিও ফুটেজে
সরওয়ার বাবলাকে গুলি করার আগে সাদা শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তির ভিডিওতে দেখা যায়, খুব কাছ থেকেই গুলি করা হয়েছে বাবলাকে। এ সময় একটি দোকানে গণসংযোগ করছিলেন এরশাদ উল্লাহ। তিনি গণসংযোগ শেষে দোকান থেকে নামার পথেই বাবলাকে এক হাত দূর থেকে ঘাড়ে গুলি করে পাশে থাকা এক যুবক। ভিডিওতে যুবকের চেহারা দেখা না গেলেও তার আশপাশে কারা ছিল, সেটি স্পষ্ট দেখা গেছে। পুলিশ এর সূত্র ধরে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে মাঠে কাজ শুরু করেছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
চট্টগ্রামে নির্বাচন ঘিরে ১০ বছরে অন্তত ১৫ প্রাণহানি
নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামে প্রাণহানির ঘটনা আছে অর্ধশত। গত ১০ বছরে এসব ঘটনায় নারী, শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আগে ভোটের দিন সহিংসতার ঘটনা হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনী সহিংসতায় চট্টগ্রামে এক দিনেই নিহত হন তিনজন। পটিয়ায় দ্বীন মোহাম্মদ (২৮) নামে এক যুবলীগকর্মী প্রাণ হারান। তিনি কুসুমপুরা ইউনিয়নের গুরনখাইন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পটিয়া পশ্চিম মালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে আবু সাদক নামে এক ইসলামী ফ্রন্ট কর্মী নিহত হন। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের মধ্যে সংঘষের্র সময় গুলিতে আহমদ কবীর (৪৫) নামে জাতীয় পার্টির এক কর্মী নিহত হন।
২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নিহত হন। ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় নির্বাচনের সময় তাসিফ (১৩) নামের এক কিশোর নিহত হয়। নলুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ড অফিস ভোটকেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র বলছে বিএনপি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতেই গণসংযোগে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা অপতৎপরতার নির্মম বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই দুষ্কৃতকারীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিসহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল, মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নইলে ওত পেতে থাকা দুষ্কৃতকারীরা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে।
মহাসচিব হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গুলিতে আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।
এদিকে এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদন্ত করে ঘটনার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। গণসংযোগকালে প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হয়ে থাকতে
